চাঁদাবাজদের পুনর্বাসনে ‘ভিক্ষার’ দানবাক্স বসানোর আহ্বান হাসনাত-পাটওয়ারীর
ঢাকা প্রতিনিধি॥
দেশে চাঁদাবাজি ও দখলবাজির বিরুদ্ধে ব্যতিক্রমী ও প্রতীকী কর্মসূচি পালন করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ ও দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। চাঁদাবাজি বন্ধের প্রতিবাদী কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীর বাংলামোটর ও হাতিরপুল এলাকায় ‘চাঁদাবাজ পুনর্বাসন দানবাক্স’ স্থাপন করে গণভিক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাংলামোটরের রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারের সামনে থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়। সেখানে দুটি প্রতীকী দানবাক্স প্রদর্শন করেন এনসিপির নেতাকর্মীরা। দানবাক্সে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বিভিন্ন বক্তব্য লেখা ছিল। পরে প্রতীকী দানবাক্স নিয়ে বাংলামোটর ও হাতিরপুল এলাকায় মিছিল করেন তারা।
কর্মসূচির আগে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে হাসনাত আবদুল্লাহ ঘোষণা দিয়েছিলেন, চাঁদাবাজির বিকল্প হিসেবে ‘পুনর্বাসন দানবক্স’ চালু করা হবে। তিনি লিখেছিলেন, ১৭ বছর ধরে সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজির অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে তাদের জন্য গণভিক্ষা কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মানুষ এক টাকা বা সামান্য অর্থ দান করলে সেটি চাঁদাবাজির পথ থেকে কাউকে দূরে রাখতে সহায়তা করতে পারে।
পরে কর্মসূচিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বাজার, হাসপাতাল, পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে চাঁদাবাজির কারণে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা সমস্যায় পড়ছেন। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে বাড়িঘর ও মাদ্রাসা দখলের পাশাপাশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও চাঁদাবাজির চাপ রয়েছে। এসব অভিযোগ তিনি রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে তুলে ধরেন; সংশ্লিষ্ট সব ঘটনার সত্যতা আলাদাভাবে যাচাই করার বিষয় রয়েছে।
চাঁদাবাজদের উদ্দেশে হাসনাত বলেন, তারা যেন মানুষের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা বা দখলে না যায়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, চাঁদাবাজির পরিবর্তে যদি কেউ অর্থের প্রয়োজনের কথা বলে, তাহলে প্রতীকীভাবে দানবাক্স থেকে তাকে অর্থ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। তিনি দেশের বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের দানবাক্স স্থাপনের আহ্বান জানান।
কর্মসূচিতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীও বক্তব্য দেন। তিনি দেশের ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রত্যেক দোকানে এমন একটি বাক্স রাখা যেতে পারে। কোনো ব্যক্তি চাঁদা চাইতে এলে তাকে চাঁদাবাজির অর্থ না দিয়ে ওই বাক্স থেকে ভিক্ষা নেওয়ার কথা বলা হবে—এমন প্রতীকী বার্তাই তুলে ধরেন তিনি।
কর্মসূচিতে এনসিপির নেতাকর্মীরা চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে মিছিলটি হাতিরপুলের মোতালিব প্লাজার সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে নেতারা চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান তুলে ধরেন।
এনসিপির নেতাদের এই কর্মসূচিকে মূলত চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে একটি ব্যঙ্গাত্মক ও প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাস্তবে দানবাক্সের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে কোনো চাঁদাবাজকে পুনর্বাসনের জন্য আনুষ্ঠানিক কোনো প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো বা সরকারি কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়নি। কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জনমত তৈরি এবং রাজনৈতিকভাবে বিষয়টি সামনে আনা।