এআই দিয়ে সিইও-আইনজীবী সেজে ১২ কোটি ৯০ লাখ ডলার হাতানোর অভিযোগ, নিউইয়র্কে তিন বিদেশির বিরুদ্ধে মামলা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী (সিইও) ও নামী আইনি প্রতিষ্ঠানের আইনজীবীর কণ্ঠ ও চেহারা নকল করে বিশ্বজুড়ে কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে ১২ কোটি ৯০ লাখ ডলারের বেশি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তিন বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে নিউইয়র্কে মামলা হয়েছে। তিনজনই ইউরোপে গ্রেপ্তার হয়েছেন।
ইউএস অ্যাটর্নি অফিস, সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব নিউইয়র্কের (এসডিএনওয়াই) ইউএস অ্যাটর্নি জেমি ম্যাকডোনাল্ড ও এফবিআইয়ের সহকারী পরিচালক জেমস সি. বার্নাকল জুনিয়র ৫ নভেম্বর অভিযোগপত্রটি প্রকাশ করেন।
অভিযুক্তরা হলেন যুক্তরাজ্য ও স্পেনের মারবেয়ার বাসিন্দা জ্যাকব সোল (৪১), ইসরায়েলের শ্যারন হাজান (৫৪) এবং ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের গাই শিতরিত (৪২)। সোল গত ১৭ জুন ও হাজান ৫ আগস্ট স্পেনে এবং শিতরিত ৭ সেপ্টেম্বর যুক্তরাজ্যে গ্রেপ্তার হন। তিনজনকেই যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত আনার (প্রত্যর্পণ) প্রক্রিয়া চলছে। হাজান ২০০৮ সালে এসডিএনওয়াইতে ব্যাংক জালিয়াতির ষড়যন্ত্রে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, চক্রের সদস্যরা সিইও সেজে কোম্পানির কর্মীদের গোপন লেনদেনের কথা জানাতেন, তারপর আইনজীবী সেজে সেই লেনদেনকে বৈধ বলে বিশ্বাস করাতেন। এরপর কর্মীদের দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন, পর্তুগাল, গ্রিস, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রিয়া, স্লোভাকিয়া ও চীনের বিভিন্ন হিসাবে টাকা পাঠানো হতো। পরে সেই অর্থ ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করে উৎস গোপন রেখে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া হতো।
ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে মিসৌরি ও ক্যালিফোর্নিয়ার দুটি হাসপাতাল ব্যবস্থা, রোড আইল্যান্ডের একটি ব্যাংক, যুক্তরাজ্যের একটি আর্থিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, ম্যাসাচুসেটসের একটি মিউচুয়াল ফান্ড কোম্পানি এবং ফ্লোরিডার একটি পোষা প্রাণীর খাবার প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
তিনজনের বিরুদ্ধে তারবার্তার মাধ্যমে জালিয়াতি, জালিয়াতির ষড়যন্ত্র, গুরুতর পরিচয় চুরি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। এর কয়েকটি অভিযোগে সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান আছে। তদন্তে সহায়তা করেছে স্পেনের ন্যাশনাল পুলিশ ও যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি। আদালতে দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তরা নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।
ফাইল ছবি: ম্যানহাটনের ড্যানিয়েল প্যাট্রিক ময়নিহান ইউএস কোর্টহাউস — Ken Lund / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)





