নিউ গিনি প্রপার্টিজে হামলা: জামায়াত এমপির জামাতা মিজানুর রহমান গ্রেপ্তার
ঢাকা প্রতিনিধি ॥
রাজধানীর ইসিবি চত্বরের দক্ষিণ মানিকদীতে নিউ গিনি প্রপার্টিজ আবাসন প্রকল্পে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় মিজানুর রহমান নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তিনি মামলার এজাহারভুক্ত ৯ নম্বর আসামি।
সোমবার রাতে রাজধানীর পশ্চিম মাটিকাটা এলাকা থেকে মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তাঁর গ্রেপ্তারের বিষয়টি ডিএমপির কর্মকর্তারাও নিশ্চিত করেছেন।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে মিজানুর রহমানকে কুষ্টিয়া-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. আব্দুল গফুরের জামাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ডিবির পক্ষ থেকে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে বলে পৃথক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
হামলার ঘটনায় সাতজন গ্রেপ্তার
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে নিউ গিনি প্রপার্টিজে হামলার মামলায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাতজনে। এর মধ্যে দুজনকে ডিবি এবং পাঁচজনকে ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।
২৬ সেপ্টেম্বর রাতে ইসিবি চত্বরের দক্ষিণ মানিকদীতে নিউ গিনি প্রপার্টিজ প্রকল্পে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। একই প্রকল্পে থাকা কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ’ স্টুডিওতেও হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
মামলায় কী অভিযোগ রয়েছে?
নিউ গিনি প্রপার্টিজের পরিচালক সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলাটি করেন। মামলায় কয়েকজনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি আরও অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারে হামলাকারীরা প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে গুলি, ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার সময় প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও থেকেও বিভিন্ন সরঞ্জাম লুটের অভিযোগ রয়েছে। ঘটনাস্থলে গোলাগুলির অভিযোগও উঠে এসেছে।
হামলার পেছনে জমি নিয়ে বিরোধ?
ঘটনার পর পুলিশ ও বিভিন্ন প্রতিবেদনে নিউ গিনি প্রপার্টিজকে ঘিরে জমি ও চলাচলের রাস্তা ব্যবহারের বিরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রকল্পের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হামলার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে এবং তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।
এদিকে নিউ গিনি প্রপার্টিজের চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে হামলাটিকে জমি দখলের চেষ্টার সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।
মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ এখনো বিচারাধীন
মিজানুর রহমানকে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে গ্রেপ্তার বা মামলায় আসামি হওয়া অপরাধ প্রমাণের সমান নয়। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা তদন্ত এবং পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
নিউ গিনি প্রপার্টিজে হামলার ঘটনায় তদন্ত ও গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।