প্রতিমন্ত্রীর সফরের মধ্যেই উত্তপ্ত কুমারখালী, হাতাহাতির ঘটনায় লাঞ্ছিত ৩ সাংবাদিক
তানভীর আজাদ
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | New York Voice Bangla.
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে বুয়েট শিক্ষার্থী শহীদ আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারত শেষে বিএনপি ও ছাত্রদলের দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে হট্টগোল, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে তিন সাংবাদিক লাঞ্ছিত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। লাঞ্ছিত সাংবাদিকদের মধ্যে স্টার নিউজের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি জহুরুল ইসলাম রয়েছেন।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা কবরস্থানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের উপস্থিতিতে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শহীদ আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারত ও দোয়া শেষে প্রতিমন্ত্রী ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে তা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
এ সময় ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালন করা সাংবাদিকেরা সংঘর্ষের দৃশ্য ভিডিও ধারণ করতে গেলে কয়েকজন উত্তেজিত নেতাকর্মী তাঁদের বাধা দেন এবং তাঁদের ওপর চড়াও হন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাংবাদিকদের দাবি, ধারণ করা ভিডিও ফুটেজ মুছে ফেলারও চেষ্টা করা হয়। এতে বাধা দিলে স্টার নিউজের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি জহুরুল ইসলামসহ তিন সাংবাদিক শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছনার শিকার হন।
ঘটনার পর কুষ্টিয়ার সাংবাদিক মহলে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে এমন আচরণের ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ এবং তাঁদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, সংবাদ সংগ্রহের কাজে বাধা দেওয়া কিংবা সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিবেদকের মন্তব্য: সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উদ্বেগজনক। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।