যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থীদের স্ট্যাটাস বাতিলের বিরুদ্ধে আপিলের সময় কমে ১০ দিন
নতুন নীতি কার্যকর, আইনি সহায়তা ও প্রমাণ সংগ্রহে সময় নিয়ে উদ্বেগ
নিজস্ব প্রতিবেদন॥
যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থী হিসেবে বসবাসরত নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের অভিবাসন-স্ট্যাটাস বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সময়সীমা ৩০ দিন থেকে কমিয়ে ১০ দিন করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন নীতিটি ১৪ অক্টোবর থেকে কার্যকর হয়েছে। এর ফলে সরকারের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করতে সংশ্লিষ্ট শরণার্থীদের আগের তুলনায় অনেক কম সময়ের মধ্যে জবাব প্রস্তুত করতে হবে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ১৩ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন নীতিটি বিশেষভাবে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা শরণার্থীদের নিয়ে সরকারের পর্যালোচনার প্রেক্ষাপটে এসেছে। প্রশাসনের বক্তব্য, শরণার্থী হিসেবে যাঁরা যোগ্য ছিলেন না, তাঁদের বিষয়ে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলা করতেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
তবে শরণার্থী সহায়তাকারী সংগঠনগুলো নতুন সময়সীমা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের আশঙ্কা, মাত্র ১০ দিনের মধ্যে আইনজীবী খোঁজা, প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ, অনুবাদ এবং সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যথাযথ জবাব প্রস্তুত করা অনেক পরিবারের জন্য কঠিন হবে।
সরকার ইতিমধ্যে বাইডেন প্রশাসনের সময় আসা এবং এখনো গ্রিন কার্ডের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা অন্তত ১ লাখ ৮৫ হাজার শরণার্থীর আবেদন পর্যালোচনা করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাঁদের সবাই এই নতুন নীতির আওতায় পড়বেন বা সবার স্ট্যাটাস বাতিল হবে—এমন কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
বাংলাদেশি পাঠকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শরণার্থী, অ্যাসাইলামপ্রার্থী এবং অ্যাসাইলামপ্রাপ্ত ব্যক্তি এক অভিবাসন-শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত নন। নতুন ১০ দিনের সময়সীমাকে সব অভিবাসী বা সব অ্যাসাইলাম মামলার জন্য প্রযোজ্য বলে বিবেচনা করা যাবে না।
তথ্যসূত্র:
১. Associated Press, ১৩ অক্টোবর ২০২৬: https://apnews.com/article/fda84f5c5ebeb929cbc2c2dbeb92bf27
২. International Refugee Assistance Project: https://refugeerights.org/
৩. Electronic Code of Federal Regulations, 8 CFR § 207.9: https://www.ecfr.gov/current/title-8/section-207.9