ইরানকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেওয়ার কথা অস্বীকার ট্রাম্পের, পরমাণু ইস্যুতে নতুন উত্তেজনা
নিউইয়র্ক প্রতিনিধি॥
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত ও পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কূটনৈতিক যোগাযোগের মধ্যেই দেশটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার বা স্থগিত করার কোনো প্রস্তাব দেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার এক বক্তব্যে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বা সংঘাত বন্ধের বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেয়নি।
ট্রাম্পের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগ অব্যাহত থাকার খবর পাওয়া যাচ্ছে। সম্ভাব্য একটি সমঝোতা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেলেও, কোনো চূড়ান্ত চুক্তির বিষয়ে এখনো ঘোষণা আসেনি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার সম্ভাব্য কাঠামোকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অবস্থানের মধ্যে এখনো বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে। এর আগে মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইরান পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিলে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা বা আটকে থাকা ইরানি অর্থের ওপর কিছু বিধিনিষেধ কমানোর বিষয় বিবেচনা করতে পারে।
তবে ট্রাম্প সেই ধরনের কোনো প্রস্তাব দেওয়ার কথা সরাসরি অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এমন কোনো ছাড়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকে আলোচনার বিষয়ে আগ্রহের কথা জানানো হয়েছে। তেহরানের বক্তব্য হলো, কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ থাকলে আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধান খোঁজা যেতে পারে। তবে ইরান তার সার্বভৌম অধিকার এবং পরমাণু কর্মসূচির বিষয়ে নিজের অবস্থান বজায় রাখার কথাও বলে আসছে।
এই পরিস্থিতির সঙ্গে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের বিষয়টিও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা আন্তর্জাতিক বাজারে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। মঙ্গলবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলারের ওপরে ওঠে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও যুদ্ধের অবসান বা পরমাণু ইস্যুতে কোনো স্থায়ী সমঝোতা এখনো হয়নি। ফলে ট্রাম্পের নতুন বক্তব্যের পরও কূটনৈতিক উদ্যোগ কোন দিকে যায়, সেটিই এখন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজরে।
তথ্যসূত্র: Reuters, The Financial Express, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সূত্র।